বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ০৪ মে ২০২৬
ঢাকা: সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আরও সক্রিয় ও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের একটি অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন মাঠ পর্যায়ে ডিসিদের ওপরই নির্ভর করে। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে অনেক প্রকল্প থমকে থাকে। তিনি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উদাহরণ টেনে বলেন, “দীর্ঘদিন যেখানে কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, সমন্বিত প্রচেষ্টায় তা এখন ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।” নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে তিনি ডিসিদের সরাসরি তদারকির নির্দেশ দেন।
সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে মন্ত্রী বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অনিয়মের দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন:
অবৈধ বাজার: সড়কের ওপর বসা হাট-বাজার ও পশুর হাট উচ্ছেদ করতে হবে।
দখলমুক্ত সড়ক: রাস্তার দুই পাশ দখল করে রাখা স্থাপনা, অবৈধ বিলবোর্ড এবং অনিয়ন্ত্রিত স্পিড ব্রেকার সরিয়ে ফেলতে ডিসিদের সক্রিয় হতে বলা হয়েছে।
সরকারি জমি উদ্ধার: সড়ক ও জনপথের পাশাপাশি নদী ও সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
মহাসড়কে অবাধে থ্রি-হুইলার চলাচল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “বাস্তবতার কারণে এটি হঠাৎ বন্ধ করা কঠিন, তবে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।” এছাড়া রেলক্রসিং দুর্ঘটনা রোধ এবং চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো অপরাধ দমনে জনসচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে জাতীয় মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি আঞ্চলিক ও জেলা সড়কেও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে যানজট ও চাঁদাবাজি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। সড়কে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এই নির্দেশনা প্রমাণ করে যে, সরকার এখন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি সড়কের ‘ম্যানেজমেন্ট’ বা ব্যবস্থাপনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ডিজিটাল মনিটরিং (সিসি ক্যামেরা) এবং মাঠ প্রশাসনের কঠোর অবস্থান সমন্বয় করা গেলে ২০২৬ সালের সড়ক নিরাপত্তা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ভূমি অধিগ্রহণ ও উচ্ছেদ অভিযানে নতুন গতি আনবে।
তথ্যসূত্র: ১. সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় - মিডিয়া ব্রিফিং (০৪ মে ২০২৬)। ২. জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬ (ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন)। ৩. বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) ও সওজ (RHD) রিপোর্ট।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
বিশেষ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |